১) স্কাইলাইনের পরে
প্রত্যাশাকারী রাত আজ বেনোজলে ভেসে যাবে জানি। নির্ঘুম কলজেতে হামাগুড়ি দিয়ে ধরতে যাবো অলীক কিছু ছবি। হেঁটে পার হব শত শত স্কাইলাইন। চেয়ে থাকবে নিঃশ্চুপ রাতবাতি আর নির্জন নদীর কোল। বিছানার মধ্যজমিন ঘিরে হালকর্ষনের ফলে বেড়ে ওঠে সভ্যতার আগাম ফসল। পৃথিবী ঘুমাতে চায় উলঙ্গ সাজে। ভালবাসা বিকিয়ে যায় শরীরের দামে। বাকি পড়ে থাকে আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভা। সেখানে পুড়তে পুড়তে ছাই হয়ে যেতে হয়। বুড়ো পৃথিবীর ঘাড়ের ওপর রৌদ্রস্নান ঠিকই হামাগুড়ি দিয়ে জিইয়ে রাখবে কইপ্রাণ! ছিঁড়ে যায় বাঁধনের সুতো। অ্যাসাইলামের গরাদ মেরুদণ্ডহীন এক অবসাদগ্রস্ত আকার গড়ে নেয়। নদীর বোঝা নিয়ে মাথা ডুকরে মরে। তবুও আমাদের সূর্যোদয় দেখে জেগে থাকতে হয়। স্কাইলাইনের পরে বিস্ময় দাঁড়িয়ে থাকে। পা দিলেই নুয়ে যেতে হয় ইচ্ছার কাছে।
২) রিভাইটালাইজেশন
বুকের বহিরাগত জামাটা খুলে রাখো এখন। রাতের অন্ধকারই তো সঠিক সময় খুলে রাখার। আমি মাটি খুঁড়ে দেখব অন্তরের পাতালভূমি। কতটা জল আছে কতটা শিলা কতটাই বা নরম মাটি – সবটাই দেখব। পোশাকটা বড় সুন্দর। তোমায় সৃষ্টিশীল মানুষের মতই দেখতে। হোগলাবনে মাতাল অশ্রুবিন্দুরা জীবনের দাম মাপছে। ভোর এসে নিয়ে যাবে তোমায় নাট্যমঞ্চের পর্দার পেছনে। মস্ত কড়ায় পাকছে সব লতাপাতারা। শুধু চেয়ে আছে শিকড়ে বিস্তার করে কিছু পর্ণমোচী গাছ। তুমি ঘুমাও। ঘাসের বিছানায় ঘুমাও। পালঙ্কের তুলোয় বড় ছারপোকা বাসা বাঁধে। আটচালা ঘরের মেঝেতে প্রশান্ত মোলায়েম ঘুম ভাল হয়। এমন ঘুম বড় প্রয়োজন।
তুমি ঘুমাও...
আমি মৃত্যুপথের সিঁড়িটা খুঁজি। তোমার হাতের মুঠোয় রেখেছি সোনার কাঠি। সে কাঠি কেড়ে নিলেই দৈত্য দানব এসে কেড়ে নেবে সুখসারির নির্ঘুম রাত।
ডিভিসির জলোচ্ছ্বাস ভাসিয়ে নিয়ে যাবার আগে মাটির প্রলেপ দাও ঘরে। শান্ত হও, ধীর হও। কিসের দোলাচালে তুমি দুলছ আমি জানি। বুকের ভেতরের আগোলটা আজ খুলে দাও। স্নিগ্ধতা আজ দেখি...
৩) অনিন্দিতার ঘর-সংসার
নিথর ভাব ঘিরে গড়া অনিন্দিতার ঘর। ঘরের চৌহদ্দির মধ্যে পর্দা টাঙানো। মুড়ি-মুড়কি ছড়িয়ে খেলার মত চঞ্চল পাখির চঞ্চু হয়ে, কোন চালচুলোহীন বাউণ্ডুলে শব্দ হয়ে, জলের দরে বিকিয়ে যায় না - অনিন্দিতার নিঃসঙ্গ প্রলাপের ঝর্ণাধারারা। বিলের জলে শালুক ফুলের দিন গুজরান। মুড়ি খাওয়া সন্ধ্যেগুলো নামে এখন অপ্রত্যাশিত টনটনে ব্যথায়। মালিশ প্রয়োজন। প্রয়োজন আরও কত কি! একটা খেয়ালী উৎসবমুখর বাঁশীর সুর যা ভুলিয়ে দিতে পারত নদীর ব্যথা, আজ সে ভুলে গেছে নদীর তীরের কাছে বসতে। তাই শামুখ খোলসে বাঁসা বেঁধেছে অনিন্দিতা। অনিন্দিতা শাক কোটে, সবজি কোটে, রাঁধে দুয়োরানীর ভাত। বিকেল হলে গোছানো চুলের ঢলে মেঘ করে এসে বজ্রবিদ্যুৎসহ বর্ষা ভেজায় নিঃসঙ্গ ক্ষণ।
৪) ঘাসের জীবন
আমার পার্লসবিট থেকে জন্ম নেয় ঘাসের জীবন। স্ট্যাম্পড রেশন কুড়িয়ে পোড় খাওয়া খাসগল্পে রোজ মেতে থাকতে হয়। একদিন ভালবেসে তুমি জড়িয়েছিলে। মায়ামৃগরা জন্ম নিয়েছিল প্রত্যূষার রশ্মি দেখবে বলে। হঠাৎ করেই তুমি ভালবাসার জলের দ্রবণকে বরফের মত শক্ত আবরণ দিলে। নীলাভ বিষে এখন গলা জ্বলে।
৫)
খড়ের প্রকৃতি
রোজকার দিন থেকে সব শস্য কেড়ে নেওয়া শেষ হলে খড়ের গাদায় বাঁধন দিয়ে কোন এক মূর্তিকার এসে তার শৈল্পিক জাদুমন্ত্রে কঙ্কালসার কাঠামো স্থাপন করেছিলেন। অতীতের সেই পুরনো বাঁধনে খড় হয়ে আবার ভেসে এসেছিল রুদিতা কোন এক নদীর উত্তাল স্রোতে। তারপর বিপুল ঢেউয়ে মিশে, চিনে নেবার প্রত্যাশা চলে দীর্ঘক্ষণ। অপর এক মৃৎশিল্পী তা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলেন বালির বালুচর। বদলে মাটির প্রলেপে দিলেন শরীরের সমস্ত মাপা অসমান ভাঁজ, নারীত্ব প্রতিষ্ঠা হল। নির্দিষ্ট দিনের শিশিরমাখা আবদারী ভোর এসে দোর ছুঁয়ে গেলে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হল। কয়েকদিনের আমোদ-আহ্লাদে, রাতভোর কেটে যায় হিমের বিন্দুকণা নিয়ে। অবশেষে ঘাটের চৌহদ্দি জুড়ে বিশাল আয়োজন আর উল্লাশ, তার সঙ্গে বর্তমানও বিসর্জন হল...
আবার কোন ঘাটে হয়ত ভেসে উঠবে। সবকিছু ভেসে গেলেও পড়ে রইল খড়ের বাঁধন, যার কোন মরণ নেই...
স্থান পরিবর্তন করে হস্তান্তরিত হতে থাকে ব্যবহার্য কাঠামো। অমলিন আত্মারাও বেঁচে থাকে যুগযুগান্তর...
বাঁচো, ধৈর্যবতী হও...
৬)
বর্তমান বিচ্ছিন্ন দুইদেশ
কথা ছিল একসাথে বিকেলের নরম রোদ থেকে কিছুটা শেষতম রশ্মি গায়ে মেখে নেব। ঘোর অমাবস্যা রাতেও আমরা উজ্জ্বল নক্ষত্র সমান ঝকমকে পোশাক পড়ব। প্রয়োজনীয় পারদ চড়িয়ে বসে থাকব। কখনও কখনও এক দমকা বাতাস বয়ে যেত। ভাবিনি কিছুই সেদিন। ভাবিনি এমনই এক দমকা বাতাস লেগে সেই আলোটাই ফুরিয়ে যাবে। এখন খাই-দাই, হিসেব করি, রোজনামচা চলতেই থাকে। এই সবই হয় অন্ধকারে, আর সেই অন্ধকার ক্রমে গাঢ়তর হতে থাকে। নিজেদের ছুঁয়ে দেখতে গেলেই চমকে উঠি একে অপরকে অজানা ভেবে। অন্ধকার ঢেকে রাখে মুখ, চোখ। এটাই হয়ত অজানা দেয়াল। হয়ত এই অন্ধকার ছিল আগেও, আলোর উজ্জ্বলতা ঢেকে দিত সমস্ত গোপন নিশিকথা। আবেগে, উচ্ছাসে উপদ্বীপে সাদা ফেনিল ঊর্মিমালা এসে মিলে যেত আমাদের মনের কাছে...
মেঘমালা নিয়ে এল সাইক্লোনের মত ঝড়ো হাওয়া। একস্থানে আমার দেশ আর একস্থানে তোমার। আরও এক দেশ পাশের জলাভূমিতে দেখলাম। ছোট্ট তরীর পাটাতনে খেয়ালি পাল টাঙালাম। ওদেশ থেকে হাওয়া এলে ওড়ে পতপত শব্দ করে।
এদেশে প্লাবন, মহামারী ছড়িয়েছে, ক্লান্তিজনিত ঘুম জড়িয়ে আসে পাতায়, নিঃশ্বাসে। মোরাম উঠে গিয়ে খানাখন্দ জেগে আছে। একদিন কি মিলিত হতে পারে না দুদেশ!
সুন্দর রুমা
উত্তরমুছুনধন্যবাদ দিদিভাই। খুব ভাল থেকো
উত্তরমুছুনএকটা অসাধারন জগতে চলে গিয়েছিলাম কিছুটা সময়ের জন্য।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ আপনাকে। খুব ভাল লাগল।
মুছুনএই মন্তব্যটি একটি ব্লগ প্রশাসক দ্বারা মুছে ফেলা হয়েছে।
উত্তরমুছুনসব গুলো পড়লাম ভালো বেশ লাগলো, তবে অসাধারন লাগলো খড়ের প্রকৃতি। অনেক শুভেচ্ছা!
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।
উত্তরমুছুন