সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

এক তুষারকাল শেষ হলে

ক্রিয়াপদের পাশে সাহায্যকারী বসাও
এবার দেখো --
বিশেষ্যপদীয় নিত্যদিনের কাজও কেমন ভাগাভাগি হতে থাকছে
না হলে তো --
বর্তমান, অতীত আর ভবিতব্যে সব ক্রিয়া হয়ে যাবে যান্ত্রিক
সব বিশেষ্য সাবজেক্ট হয়ে সেই একই ধান ভেনে যাবে।

জড়দেহের সাথে যদি থাকে একটা ভার্ব
শব থেকে উঠে আসবে ঊর্ধ্বগমন,  হেঁটে যাবে কয়েকশতাব্দীকাল,
এ সময় হল অবসাদগ্রস্ত মানুষের --
বহুতলের বাড়ির দেওয়াল তা শুধু জানে

এক তুষারকাল শেষ হলে
অযান্ত্রিক পেয়ে যাবে ফূর্তি ও সম্ভ্রম,
অনন্ত প্রত্যাশানুযায়ী
মগডালে ঝুলে থাকবে জুবুথুবু মান ও হুঁশ!

16/01/2017

ডায়াবলিকাল মাস্ক

নীলবাতির ভারে নুব্জ হয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে
                                               নিরক্ষবৃত্তের ঘাম
আলো চেয়ে আঁতলামো করে যারা
              তারাই এখন দুঁদে ছুরি কাঁচির কারবারী

এদিকে অজান্তেই খুব যত্ন করে সাজালে পানপাতা --
                                                আড়িপাতা চোখ
এল রাসযাত্রা -- শুক্ল প্রতিপদ।
              তোমারই যতনে বেড়ে উঠল ভেনম গাছ
দুধ-কলা সহযোগে পুষলে কালসাপ।
দংশনের পর দংশন --
                 এল লালবাতির ষাঁড় --
                                                  অন্ধকূপ
প্রতিবার তুমি ছেড়ে আসো মরণযাত্রায়, কিন্তু,
মৃত্যুবীজ থেকে আমি জন্ম নিতে থাকি
আর ডায়াবলিকাল মাস্ক
                     আমাকে আরও জীবন্ত করে!!

১৫/০১/২০১৭

রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

ভোরের সাতকাহন (১০)

বাসি বিছানায় ঘুমের আদর মাখে
                          সপ্তাহান্তের আলসেমি,
কিছুক্ষন পাশাপাশি থাকা পাশবালিশে পড়ে থাকে অবাধ্য পা।
বিলাসপরায়ণ স্মৃতিরা আলতোভাবে ডানা মিলে দিলে
হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে স্বপ্নের কোলাজ!

পিঠের গন্ধে ঘুম ভেঙেছে মাঘীপার্বনের;
দুধপুলি আজ সমাঘ্রাত।
দিগন্তের চারপাশে ধোঁয়াশা সকাল আর
      দুর্বাঘাসে লেগে শিশিরের সম্মোহন,
মৃত্যুহীনতাকে আঁকড়ে স্মৃতিদের শুধু জন্মাতেই দেখি।
সিঁড়ি ধরে এগোবার কালে বহুমাত্রিক সময় দরজা খোলে
আমি এগিয়ে যেতে থাকি আর ধীরে ধীরে অতীত হয় নিম্নগামী।

সাতকাহন গেঁথে পেরিয়ে চলেছে বহুরূপী,
ভোরাই এখন থেকে গাইবে একতারার সুরে...

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৭

পর্যটক

স্থিরতাকে ভাঙতেই
চেনা হয়ে যায় শব্দের হাইব্রিডাইজেশন।
ধোঁয়াশা সকাল কেটে বেরিয়ে আসে
                          গন্তব্যস্থলের ঠিকানা
তারপর ব্যাকপ্যাকে খোলা মাঠ আর হা-হুতাশ পুরে
ম্যাপের সীমানায় পাঁচিল তুলে রাখো, কারণ
বিভাজন চলছে, চলবে, চলতেই থাকবে...
তাই ভবিতব্য বলতে --
অবশিষ্টাংশকে বুঝে নেওয়া যেতে পারে।

খেলা চলছে চলুক--
আমাকে জিরো পয়েন্টে পৌঁছতেই হবে..

১১/০১/২০১৭

বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৭

জল-সিঁড়ি

জলের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যাবার প্রাক্কালে দেখি
ছাল ওঠা বালি-দেয়াল আর জঙ ধরা কঙ্কাল।
যে দেখছে বা যারা দেখছে
তারা ফুলের টব সাজাতেই ওপর-নিচ করে চলেছে।
আড়াল থেকে সিঁড়িভাঙ্গা প্রশ্নগুলোকে জবাব দিতে দিতে
স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে আসছে আমার সাধ্য আর
অভিমানী তালিকা।
একবার ছাদ ছুঁতে গেলে দেখি আকাশ দূরত্ব বাড়িয়েছে,
তারই নিচে ভেসে বেড়াচ্ছে মৃত্যুর সাম্পান!

আমি বিন্দু হয়ে এখন নিজের জলবৃত্তের লাগামছাড়া সারথি,
আর তুমি --
আমার জলঘড়িতে পাথরপুরীর বরফপ্রতিমা।

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ফ্ল্যাশব্যাক (৫)


ধূলোবীজ থেকে কোন শর্তহীন নিকানো উঠানের ডায়েরী খুলে গেলে, দেখি দুরন্ত সব সোনাঝুরি কিশোরবেলা।  পানপাতায় ভেসে ওঠে একাধিক মুখ।
অনন্ত পথের ট্রেনে চাপলে বাইরের জলজীবনকে পিছনে হাঁটতে হয়।
17/12/2016

ফ্ল্যাশব্যাক (৪)


শীতার্ত দুপুরে সিঁড়ি ভেঙে নামে কামরাঙা গল্পের নহর। হলদেটে আর্যসুখে ঝলসে ওঠে এক জীবিত অস্তিত্ববাদ। ক্রমশ ঢালু পথ ধরে নামতে থাকি ডুমো ফ্ল্যাশব্যাকে।  মুখবন্ধেই গড়িয়ে যায় উচ্ছাস ধোয়া জল!
মৌনবাসর সাজিয়ে তখন খুলি এক জল গ্রন্থ। পৃষ্ঠার গায়ে ঝলকদর্পণ।  দেখি মা-ঠাকুমার এলোচুল আর মেঘরাতের বিলাসী সংলাপ। 
ফ্ল্যাশব্যাকে জেগে থাকি। শেষ হলে মুরগী ডানা ঝটকায়...
17/12/2016