শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৬

চলতি পথে

(১)
চলতি পথের কিনারায় কখনও ঝিলিক দিয়ে ওঠে
ভূমিকাহীন নিরর্থক কিছু ভ্রাম্যমাণ আলেয়া।
সেই আলেয়ার পথ ধরে এগোতেই আমরা পৌঁছে যাই নদীকিনারেঃ
সেখানে জল আছে,  ঘাট আছে,  আছে নদীর ভাঙন।

(২)
পুজোর মাস..
প্রতিমা নিরঞ্জনের মাটি ধুয়ে ঘোলাটে জলে জলখেলা করে পরিত্যক্ত ফুল
আর ঘাটের সিঁড়ি ধরে এগোলে তুমি পৌঁছে যাবে নদীগর্ভের পাতালে।
ভেসে থাকতে জানে কচুরিপানা -
তাই রাতের অন্ধকারে কখনও সাদা বক ভেসে চলে কচুরিপানার কোলে;
শুধু আমি তুমি সেই ভ্রাম্যমাণ আলেয়ার গভীরতায় ডুবে থাকি।

(৩)
চলন্ত ভাবনার অন্তরালে আমি চুমুক দিই
স্থলভাগ ছুঁয়ে অজস্র তীক্ষ্ণ ফলকরাশি মুহূর্তে আমার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

(৪)
নতুন পোশাক পড়ে ঢেকে দিই  অশুদ্ধতা
তারপর দ্বারস্থ হই মন্দিরে
বিশুদ্ধচিত্তে পুজোর মন্ত্র উচ্চারণ করি।
প্রসাদ খেয়ে আবার এক চলতি পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি সবুজ সংকেতের...

(৫)
চলতি পথে যেতে যেতে কখনও শুনি ভাঙনের কথা।
মনুর চায়ের দোকানে কারা যেন বলে চলেছিল নদীপাড়ের বাড়িটার কথা
যেটা গতকাল নদীগর্ভে মিলিয়ে গেছে।
সিমেন্ট বালির ঘর ভাঙনে অদৃশ্য হয়ে মিলিয়ে যায় কিন্তু
বাড়ির অন্দরমহলের ঘরের ভেতর ঘরের ভাঙন কি অদৃশ্য হয়! 

12/11/2016

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন