(১)
ওগো ধ্রুবতারা,
তোমার জন্য ফুটেছিল সন্ধ্যামালতী
তোমার সঙ্গোপনেই হাসে রূপোর চাঁদ
তোমার জন্যই আকাশ চাঁদোয়া
শুধু তুমি বুঝেও বুঝলে না।
(২)
বৃক্ষটা ছায়া দিতে জানে,
কিন্তু আপনজনে না পারে বাঁধতে।
ধীরে ধীরে বাকল্ খসে যায়,
বৃক্ষ আপনভোলা রয়।
(৩)
যখন তুমি কাছে থাক না,
আরও বেশি তোমাতেই জড়িয়ে পড়ি।
যখন তুমি ও আমি দুই পৃথিবী,
তোমাকেই ভেঙে গড়ি।
(৪)
সারাদিন জলে থৈ থৈ
বড়শি গেঁথে ছিপ ফেললাম জলে
সন্ধ্যামণি ফুটে উঠলে গাছে
উঠে এল ভেজা এক আস্ত গোলাপ।
(৫)
নির্মলধারা বয়ে যায় মনকুঠিরে,
সঙ্গপ্রিয় সঙ্গতি রচে সৃষ্টির রঙে।
পাখি ফেরে দিনের শেষে,
শিকারি বেড়ালের থাবায় প্রত্যুষ বাসা বাঁধে।
(৬)
বাঁশি কখনও বর্বরোচিত সুর তোলে
শিয়রে বাজে তখন মৃদু মৃদঙ্গের তাল লয়
ছন্দে ছত্রে ঝরে পড়ে যত অসময়ের বৃষ্টিফোঁটা
হঠাত আকাশ পরিধান করে তারকাখচিত জামা।
(৭)
গণচাওয়াতেই প্রেরকের স্বপন
ভালবাসা সে স্বপনের কাছে মূর্ছা যায়
গাছের শরীরে লেগে থাকে কঙ্কালসার
পাতারা সেই কবেই গেছে ঝরে পড়ে।
৮)
শব্দেরা হয় জলের মত আকারবিহীন
শব্দের ক্যানভাস মিলে ধরে
তুমি যে রঙ লাগাতে চাইবে
বিমূর্ত সেই ছবিই তোমাকে উপহার দেবে।
৯)
শব্দকে আগুনে ফেলে দিলে
লেলিহান শিখায় তুমি পুড়ে যাবে
কাঠ জ্বলে যায়, জল সে আগুনে ঝাঁপ দিলেও
অবশিষ্ট থাকে সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ।
১০)
একটা সুতো ছিঁড়ে গেলে
দুটো টুকরোয় ভাগ হয়ে যায়
একে অপরকে দোষ দিলেও
আসলে দুটোই হয়ে যায় দুষ্ট।
১১)
শব্দগুলো কেমন ভেজা ভেজা, যেমন ভেজা এই কোমল মন। কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে শুকিয়েছে ভাষা, ধুকপুকে বুকে শূল বেঁধা ক্ষণ।
১২)
তুমি স্বপনদুয়ার খুলে এসো
এসো উষ্ণ পরশ নিয়ে
আমি বৈঠা নিয়ে বসে আছি
নৌকা বাইবো বলে।
১৩)
তুমি ভীষণ এক মেঘলা দিনে এসো
এসো জ্যোৎস্নার ছটা নিয়ে
আমি জানলা খুলে দাঁড়িয়ে আছি
তোমার আসার পথ দেখব বলে
১৪)
আমি তোমার রূপ দেখি না মা
দেখি তোমার দশভূজার অস্ত্র
প্রতি নারীর অন্তরে আছো তুমি
দাঁড়িয়ে আছো তুমি, নিয়ে শস্ত্র।
১৫)
ভালবাসার আলাপে কথারা মাজাঘষা হয়ে সতেজ হয়
আবেগ ফুরালে যমে-মানুষে টানাটানি
ঘরের নির্জন কোনে নাছোড়বান্দা ময়লা ভেবে
ভালবাসা পড়ে থাকে তলানি হয়ে।
১৬)
আলাপে বিরাগভাজন বৃত্তে এসে দাঁড়ায়
অনুভবের অলস আঙুলের ব্যথারা জাগে
বেলা পড়ে এলে ঝোপঝাড় অন্ধ হয়ে যায়
মুষলধারায় বৃষ্টি এসে পথ ভেজায়।
১৭)
নষ্টনীড়ে কান্নারা বড় শব্দ তোলে
নিঃশব্দে রাত নামে, পৃথিবী ঘুমায়
নির্ঘুম বেদনারা অক্লান্তভাবে জাগে
কোলের কাছে না পাওয়া ভালবাসা গুমরোয়।
১৮)
একে একে দুই হলে ভালো,
তিন মিশে গেলে সাদাও হয়ে যায় কালো।
বেরঙ জলও তখন ঘোলাটে লাগে,
শূন্য চরে ত্রয়সংখ্যার হাহাকারের আর্তনাদ জাগে।
১৯)
শিকল কেটে যে পিঁপড়ে বেরিয়ে এসেছিল
তুমি সেনাপতি হয়ে তাকে পাঠিয়েছ কারাগারে বন্দী হতে।
তৃতীয়পক্ষকে চোহদ্দির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে সিংহাসন দিলে,
এখন রাজা সেজে রাজনীতির মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছ!
20)
জলের পিঠের ওপর
বেনামা হাওয়াদের গতির খবর থাকে।
মৃদুমন্দ দোলাচালে তরঙ্গোচ্ছ্বাস বুকে পিঠে লালন করে
আকাশের গাঢ় নীল সুধা পান করে নির্জন পুকুর।
২১)
এই যে অতৃপ্ত শহর আমি রোজ দেখি,
তার তৃষ্ণাতুর কামার্তনাদের শব্দ যখন শুনি
কচুপানা ডোবায় তখন হাতড়ে খুঁজতে থাকি অস্তিত্ব
আর খুলির ভেতর ধেয়ে আসে প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘন কালো মেঘ।
২২)
প্রিয়াংশীর অনুভবে পোড়া ছাই মিশে গেছে
নিত্য এই জ্বলনোন্মুখ আগ্নেয়গিরির
পোড়া লাভা গড়িয়ে চলেছে নিম্নাভিমুখে
বিষফোঁড়া গলায় নিয়ে অহরহ বাঁচার লড়াই ঘর্মাক্তকলেবরে
আমি তো বাঁচতে চেয়েছিলাম আরও অনেক অনেকগুলো দিন...
(২৩)
ঘাঁটি গেড়ে পরিকল্পিত শূল বিঁধে দিলে তুমি
শরশয্যায় আজ নির্লিপ্ত দেহ, মৃত্যুযোগ লেগেছে অন্তস্তলে
শ্বসমান ক্লোমনালিকা নিয়ত পরাধীন সময় মাপে
তুমি না এলে ঘূর্ণাবর্ত ক্রমশ কেন্দ্রাভিমুখে তলিয়ে যাবে...
(২৪)
বাড়ানো হাতে হাতটা ধরো,
আরও শক্ত আরও মজবুত করে...
মনের প্রাতঃকৃত্য সেরে স্থির নদীর জলে স্নান সারি চলো
তারপর শুভ্রবসন মুড়ে কবিতার আখড়ায় বসি!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন