আমার কবিতাতে অন্য কোন মানুষ-জনের অন্তঃসলিল প্রকরণ নেই। বাঁকা চাঁদের হাসি আমাকেই দেখে বাঁশবনে আলো দেয়।
কিছু মানুষ এসে বলল শ্রুতিনাটক হবে পাড়ার মোড়ে। সেখানেও একক শ্রুতি নাটকের একক চরিত্র আমি। আমায় নিয়েই পর্দার যবনিকা উত্তরণ। স্পটলাইটের ফোকাস আমার চালচিত্রে আবছায়ার নকশা এঁকেছে। অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহের অদৃশ্য দর্শনার্থীরা দেখে নি আমার শাড়ির এক অংশ ছিঁড়ে গেছে। সেই গতবার যখন মাঝের হাটের স্টেশনে বসেছিলাম, একটা ট্রেন দুরন্ত গতিতে এল। আমার শাড়ির পাড়ে হাওয়া এসে লাগতেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল শাড়ির প্রতিটা ভাঁজ। রক্ষিত অংশও হয়ে পড়েছিল অরক্ষণীয়া। হয়ত প্রমাণসরূপ খোঁচায় আটকে গিয়েছিল শাড়ির ছেঁড়া অংশভাগ। সেদিন মা বলেছিল সাবধানের মার নেই। আজও সেই শাড়িটাই পড়ে আছি, সেই ছেঁড়া অংশভাগসমেত। কাল যে শাড়িটা পড়ব সেটাও ছেঁড়া, পরশু আর একটা পড়ব, সেটাও... রিফুটাও আমাকেই করতে হবে কারণ আমার কবিতার অন্য কোন মানুষ-জন নেই! আমি আমার কবিতার একক অনুভূতি।
আমার কবিতার আবৃত্তি হবে, আবৃত্তিকার আমি, শ্রোতাও আমি। কারণ আমার কবিতা শুধু আমাকেই উপস্থাপন করে। আমার এক হাত লেখে কবিতা আর এক হাত পিঠেতে রাখি। আমার সুউচ্চ স্বরের কবিতাপাঠ আমার একার ঘরেই প্রতিধ্বনিত হয়। আমার প্রতিটা উচ্চারিত শব্দ, প্রতিটা লেখা অক্ষর সব আমার দিকেই ফিরে আসে। আমার ঘরে দ্বিতীয় কোন উনুচ্চারিত শব্দ নেই কারণ আমার কবিতায় অন্য কোন মানুষ-জন নেই...
9.46
24/10/2016
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন